প্রকাশিত: ২৪/০৫/২০২১ ১১:২০ এএম
দৃশ্যমান রেল পথ

মাহাবুবুর রহমান ::
কক্সবাজার রেল লাইন এখন স্বপ্ন নয় বাস্তবতায় পরিণত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চকরিয়া থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন অংশে রেললাইনের পাটাতন বসায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশা দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত সময়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হওয়ায় দারুণ খুশি সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষজন রেল লাইন কাজের অপ্রগতি দেখে মহাখুশি। এদিকে সংশ্লিষ্টদের দাবী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২২ সালেই কক্সবাজারে রেলে করে মানুষ আসতে পারবে।

রামু উপজেলার কালীরছড়া মাছুয়াখালী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, আমার জমি পড়েছিল রেল লাইন প্রকল্পে। যদি টাকা পেতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল তখন বেশ খারাপ লেগেছিল। তবে এখন রেল লাইনে পাটাতন বসেছে দেখে বেশ ভাল লাগছে সত্যি বলতে আমার খুবই আনন্দ লাগছে। কারণ দেশের জন্য কিছু করতে পারলাম। সত্যি বলতে এত তাড়াতাড়ি রেল লাইনের কাজ শেষ হবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি। ভেবেছিলাম সরকারি কাজ আস্তে ধীরে হবে হয়তো আমাদের জীবন থাকতে দেখে যেতে পারবো না। কিন্তু এখন সত্যি ভাল লাগছে।
ঈদগাও মধ্যম নাপিতখালী এলাকার ডাঃ রুহুল আমিন বলেন, আমার জমিও রেল লাইনে পড়েছে। জমি অধিপ্রহনের টাকা পেতে কিছুটা হয়রানী হলেও যা পেয়েছি তাতে সন্তুষ্ট। তবে এখন ভাল লাগছে আমার বাড়ির সামনে দিলে রেল যাবে এটা আমি দেখতে পারবো।
এছাড়া আমার ছেলেমেয়েরা দেখতে পারবে এটা ভেবে বেশ ভাল লাগছে। এছাড়া দেশের উন্নয়নে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পেরেছি ভেবে বেশ আনন্দ লাগছে। আমার বাড়ির সামনে রেল লাইন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এখনো পাটাতন বসেনি কিন্তু প্রায় পাশে এসে গেছে। আমার মতে কাজ খুব দ্রত হচ্ছে এবং কাজের মানও বেশ ভাল বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে রেল লাইন কে ঘিরে বর্তমানে এলাকার মানুষের মধ্যে বেশ আনন্দ উৎসব বিরাজ করছে প্রতিদিন বিকাল হলে অসংখ্য নারী পুরুষ রেল লাইনের উপরে ঘুরতে বের হয়। আর নারী পুরুষ সবাই মিলে বেশ আনন্দ উপভোগ করে।

ঈদগার বাসিন্দা সাংবাদিক রেজাউল করিম বলেন, সত্যি কথা বলতে ২ বছর আগে যখন রেল লাইনের কাজ শুরু হয়েছিল তখন অনেকে চিন্তা করেছিল সহসা রেল লাইনের কাজ শেষ করতে পারবে না। তবে এত দ্রুত কাজ হবে সেটা কেউ কল্পনা করতে পারেনি। বিশেষ করে এখন বেশির ভাগ জায়গাতে পাটাতন বসানোর কাজ শেষ হওয়াতে মানুষ খুবই খুশি। অনেকে বলছে এটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
আলাপ কালে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়ন মুখি সরকার। বিশেষ করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে ঘিরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে আপ্রহ সেটা কক্সবাজারের মানুষ কখনো ভুলতে পারবে না। রেল লাইন নিয়ে অনেক মানুষ ভ্রান্ত ধারণা পোষন করেছিল অনেকে মনে করেছিল আদৌ রেল লাইনের কাজ শেষ করতে পারবে কিনা? কিন্তু সরকারের প্রচন্ড আন্তরিকতার কারণে রেল লাইন এখন স্বপ্ন নয় বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। রেল লাইন কাজে চকরিয়া অংশে প্রায় জায়গাতে পাটাতন বসে গেছে। অর্থাৎ রেল আসার জন্য প্রস্তুুত হয়ে গেছে। এখন বাকি অংশে কাজ শেষ হলেই রেল আসতে আর বাধা থাকবে না।
এদিকে রেল লাইন প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, চট্টপ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইনের কাজ ৭০% পর্যন্ত শেষ হয়েছে। বাকি কাজও আশা করি যথা সময়ে শেষ হয়ে যাবে সে হিসাবে সরকারি ঘোষণা মতে ২০২২ সাল নাগাদ কক্সবাজারে রেলে করে মানুষ আসতে পারবে। সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার

পাঠকের মতামত

উখিয়ার শ্মশানভূমি নিয়ে বিতর্কসরকারি রেকর্ড ও আদালতের নথি সামনে এনে পরিচালনা পরিষদের বক্তব্য

কক্সবাজারের উখিয়া সদরের দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ...

চলে গেলেন ঢাবি-জবি-ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৬ জন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ ...

ভুয়া এনআইডিতে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফেরানোর চিন্তা

জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের পর ওই পরিচয়ে পাসপোর্ট বানাচ্ছেন কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গারা। ...

নিরাপত্তা জোরদারে টেকনাফের হ্নীলায় হচ্ছে সেনা ক্যাম্প, চলছে স্থান নির্ধারণের কাজ

কক্সবাজারে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের ...